মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

দর্শনীয় স্থান

স্থানবিবরণ উদ্দেশ্যযাতায়াত সময়যোগাযোগ

সুলতান কমপ্লেক্স, নড়াইল

সুলতান কমপ্লেক্সে বিশ্বেবরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের স্মৃতি বিজড়িত সংগ্রহশালাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। চিত্রা নদীর পাড়ে নড়াইল শহরের মাছিমদিয়া এলাকায় মনোরম পরিবেশে এই কমপ্লেক্সের অবস্থান। প্রায় ২৭ একর এলাকায় গড়ে উঠা কমপ্লেক্সে দুর্লভ নানা প্রজাতির গাছের সমারহ। পাখিডাকা নদী আর সবুজের মাঝে চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানকে সমাহিত করে রাখা হয়েছে । সমাধি সৌধের সামনেই রয়েছে সুলতানের আদি বাসস্থানের খানিক অংশ । এর পিছনে দ্বিতল আধুনিক ফটোগ্যালারিতে সুলতানের চিত্রকর্ম ও ব্যবহার্য জিনিসপত্রগুলি সংরক্ষণ করে রাখা আছে। সুলতানের দুর্লভ সব চিত্র কর্মগুলি দেখার জন্য প্রতিদিনই গ্যালারি খোলা থাকে। লাল সিরামিকে মোড়া  এই কমপ্লেক্স শান্ত, নিরিবিলি পরিবেশ আর অপূর্ব সব চিত্রকর্ম সুলতান কমপ্লেক্সের মর্যাদা বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুন। সুলতান শিশুদের ছবি আঁকানো শিখানোর জন্য নদীতে তৈরী করেছিলেন বজরা ‘‘শিশু স্বর্গ" । শিল্পীর তৈরী সেই শিশুস্বর্গটি কমপ্লেক্সের পাশেই চিত্রানদীর ধারে সংরক্ষণ করা হয়েছে । এই কমপ্লেক্সটির সংলগ্ন এলাকাতে শিল্পীর দেয়া নামে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে শিশুস্বর্গ - যেখানে ছোট ছোট বাচ্চাদের ছবি আঁকা শেখানো হয় ।

নড়াইলের গৌরব বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এস,এম,সুলতানের স্মৃতি গণমানুষের কাছে চির ভাস্বর এবং আগামী প্রজন্মকে উজ্জীবিত করার মানসে সুলতান কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়েছে ।

ঢাকা থেকে সড়ক পথে আরিচা ফেরী পার হয়ে নড়াইল সদর ।

সরকারী ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন ৯.০০টা হতে বিকাল-৫.০০ টা পর্যন্ত এই কমপ্লেক্স খোলা থাকে।

কিউরেটর,

সুলতান কমপ্লেক্স,

ফোন-০১৭১৮৩৮৪৭৪৪

বাধাঘাট, নড়াইল

নড়াইলের ঐতিহ্য বাহী জমিদারদের বাঁধানো ঘাট। ভারতের গঙ্গা নদীর উপরে একই আওলের একটি ঘাট রয়েছে । এটি ভিক্টোরিয়া কলেজ সংলগ্ন চিত্রা নদীর পাড়ে অবস্থিত।

তৎকালীন জমিদারদের নৌ-বিহারের জন্য ও নদীর তীরে বসে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের জন্য ঘাটটি প্রতিষ্ঠা করেন ।

ঢাকা থেকে সড়ক পথে আরিচা ফেরী পার হয়ে নড়াইল সদর ।

উন্মুক্ত

জেলা প্রশাসক, নড়াইল

ফোন-০৪৮১-৬২৩০১

নিরিবিলি পিকনিক স্পট, লোহাগড়া, নড়াইল

পিকনিক স্পট এর মধ্যে একটি মিনি চিড়িয়াখানা, পুকুরে ছোট নৌকা চালনাসহ এখানে একটি শিশু পার্ক, দোলনা, রোপওয়ে ও মিনি ট্রেন আছে ।

ঢাকা থেকে দুরত্ব-৩১০ কিঃমিঃ, সময়-৫/৬ ঘন্টা,বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে নানা দর্শনীয় স্থান। এর মধ্যে ঈশ্বর প্রদত্ত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেমন আছে তেমনি আছে সুন্দর মনের মানুষের তৈরি দর্শনীয় স্থান। এমনি একটি দর্শনীয় জায়গা হচ্ছে নড়াইলের নিরিবিলি পিকনিক স্পট। বাংলাদেশের মানুষের আনন্দ বিনোদনের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে নড়াইলের এই পিকনিক স্পটটি। প্রতি নিয়ত দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছে ছাত্র, শিক্ষক, বৃদ্ধ, বৃদ্ধাসহ নানা বয়সের উৎসাহী হাজারো মানুষ। নাচ, গান আনন্দ বিনোদনে ভরপুর হয়ে থাকে। অনেকের কাছে এই পিকনিক স্পটটির কথা শুনে যাওয়ার প্রবল ইচ্ছে জাগে মনের ভেতর। সুযোগ ও এসে যায় কিছু দিনের মধ্যে শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত টিচার্স ট্রেনিং কলেজ বরিশালে বিএড প্রশিক্ষণকালীন সময়ে শিক্ষা সফরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। আমরা সিদ্ধান্ত নেই আমরা নড়াইলের নিরিবিলি পিকনিক স্পটে যাব। প্রায় তিন শত শিক্ষক শিক্ষার্থী যাত্রা শুরু হয়। মধুমতি নদীর চাপাইল ফেরি পার হয়ে এগিয়ে চলি। মধুমতি তীরের মানুষের সঙ্গে দেখা হলে তারা জানান, আজ মধুমতিকে দেখছেনে তা এমন ছিল না। চর পরে পরে নদীটি আজ মৃত প্রায়। সেখানকার সহজ-সরল মানুষগুলোর আন্তরিক ব্যবহার আমাদের মুগ্ধ করে দেয়। গল্প গান আর নানা মজায় এক সময় পৌঁছে যাই কাঙ্ক্ষিত পিকনিক স্পটে। পার্কে ঢোকার গেটটি দেখেই অনেকে মন্তব্য করতে থাকে, ভেতরে যেন কত না সৌন্দর্য অপেক্ষা করছে। ভেতরে প্রবেশ করে প্রত্যেকেই বিমুদ্ধ হয়ে যাই। একজন সুন্দর মানুষের অন্তরের সব সৌন্দর্য মিলিয়ে তৈরি করেছেন এ পার্কটি। এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অনেক বেরসিক ভ্রমণকারীদের আকৃষ্ট করবে। কৃত্রিমভাবে তৈরি বিনোদনের অসংখ্য উপকরণ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বাগানটির বিভিন্ন প্রান্তে। বহু মানুষ দল বেঁধে এসেছেন আবার কেউবা এসেছেন নিজের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে। নানা বয়স ও নানা রকমের মানুষের কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে আছে পুরো পিকনিক স্পটটি। অনেকগুলো জায়গায় চলছে রান্না-বান্নার আয়োজন। কোথাও গানের আসর আবার কোথাও চলছে নিছক আড্ডা,। আবার কেউ কেউ ব্যস্ত নানা রাইডে চড়তে। বাচ্ছাদের আনন্দ বিনোদনের একটি চমৎকার স্থান হচ্ছে নিরিবিলি পিকনিক স্পট। নড়াইল শহর থেকে কয়েক কিলোমিটার ভেতরের দিক সৌন্দর্য প্রেমী একজন মানুষ তৈরি করেছেন এ বিনোদনের কেন্দ্রটি। এখানে আলাপ হয় পার্কটির মালিক ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ শফিকুর রহমানের সঙ্গে। তিনি জানান_ ছোটবেলা থেকেই ঘুরে বেড়ানোও প্রকৃতির অপরূপ শোভা দেখতে ছুটে বেড়াতেন নানা জায়গায়। সেই থেকেই তার মনে প্রবল ইচ্ছে নড়াইলে কী এমন একটি বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলা যায়, যা দেখতে ছুটে আসবে হাজারো প্রকৃতি প্রেমী। মনের ইচ্ছাকে বাস্তবে রূপ দিতে ১৯৯১ সালে নড়াইল জেরার লোহাগড়া উপজেলার রামপুরা এলাকায় ১৫ বিঘা জমির ওপরে গড়ে তোলেন নিরিবিলি পিকনিক স্পট। আস্তে আস্তে করে নানা সংগ্রহে এটিকে সমৃদ্ধ করে তোলেন। আজ তার সৃষ্টিতে হাজার হাজার মানুষের মনে আনন্দ দিতে পারছে, এতেই তিনি খুশি। এখানে আছে বিরল প্রজাতির পেলিকন পাখি। অদ্ভুত এ পাখি বাংলাদেশের আর কোথাও নেই বলে জানান তিনি। এখানে রয়েছে সব বয়সের উপযোগী ১২টি রাইড, যার মধ্যে রোপওয়ে, ট্রেন, ওয়াটার বোর্ড উল্লেখযোগ্য। এখানে রয়েছে বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামসহ নানা ভাস্কর্য যা পার্কটির শোভা বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। অপরদিকে হরিণ, কুমির, ভল্লুক, অজগরসহ নানা জাতের পশুপাখি যা আপনার হৃদয়কে আকৃষ্ট করবে। এখানে আর একটি মজার সংগ্রহ হচ্ছে শরণখোলা থেকে সংগ্রহ করা ৭০ ফুট লম্বা একটি তিমি মাছের কঙ্কাল। কঙ্কালটি দেখলে বুঝতে পারবেন জলজ এ প্রাণীটি জলে কত শক্তিশালী হতে পারে। এরপর রয়েছে পুকুরের ওপরে তৈরি কৃত্রিম ব্রিজ যা আপনার মনকে আকৃষ্ট করবে। স্রষ্টার অপরূপ সৃষ্টিকে দেখে আমরা সব সময় বিভোর হই। স্রষ্টার সৃষ্টির সঙ্গে কোন কিছুর তুলনা চলে না। স্রষ্টার সৃষ্টির সঙ্গে কৃত্রিম কিছু সংযোজন করে মানুষের হৃদয়কে আকৃষ্ট করার যে প্রায়াস তা আমার মন-প্রাণকে আকৃষ্ট করেছে। আমার বিশ্বাস আপনি যদি প্রত্যক্ষ করেন তবে আপনার ও হয়ত খারাপ লাগবে না। আর যে মানুষটি এমন সৌন্দর্য সৃষ্টির প্রচেষ্টা চালিয়েছেন তাকে হৃদয়ের গভীর থেকে শ্রদ্ধা ও অভিনন্দন জানাই। কোথও কোন সুন্দরের খবর পেলে আমার হৃদয়টি ছুটে যেতে চায় সেখানে। তাই বলছি প্রিয় পাঠক আপনারও যদি বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সৌন্দর্য দেখার ইচ্ছে হয় তা হলে একবার ঘুরে আসুন নড়াইলের নিরিবিলি পিকনিক স্পটে। ঢাকা, রজশাহী, খুলনা, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল থেকে বাসে করে পৌঁছে যেতে পারেন। আমার বিশ্বাস আপনার ভালো লাগবে অপরূপ শোভায় শোভিত নিরিবিলি পিকনিক স্পটকে।পার্কের মধ্যে পিকনিক স্পট, রোপ ওয়ে, স্পিডবোট ও একটি মিনি চিড়িয়াখানা আছে।

দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের কাছে অত্র জেলাকে পরিচিত এবং এ জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরার জন্য এ প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়েছে ।

ঢাকা থেকে সড়ক পথে নড়াইল এর লোহাগড়া উপজেলার রামপুর নামক স্থানে যেতে হবে

প্রতিদিন ৯.০০টা হতে বিকাল-৫.০০ টা পর্যন্ত খোলা

সৈয়দ মফিজুর রহমান

স্বত্ত্বাধিকারী ,

নিরিবিলি পিকনিক স্পট, লোহাগড়া, নড়াইল।

ফোন-০১৭১১-৬৯৩৭৮৮

অরুনিমা কান্ট্রি সাইড এন্ড গলফ রিসোর্ট  , পানিপাড়া, কালিয়া, নড়াইল

 ঢাকা হতে বাসে সরাসরি নড়াইল হয়ে পানিপাড়া, কালিয়া । সড়ক পথে দুরত্ব ৩৫৫ কিঃমিঃ, সময়-৫/৬ ঘন্টা ।নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার মধুমতি ও নবগঙ্গা নদীর সংযোগস্থল পানিপাড়া গ্রামে সবুজ ছায়া ঘেরা অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দার্যময় পরিবেশে ৫০ একর এর বেশি জমির উপর ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে উঠেছে অরুণিমা কান্ট্রিসাইড এন্ড গলফ রিসোর্ট, এটি বৃহৎ মৎস্য খামার, অন্যদিকে এটিকে বিরল প্রজাতির ফুল ও ফলের বাগানও বলা যেতে পারে। এখানে আসা বিনোদন প্রিয় সকল শ্রেণীর মানুষের জন্য রয়েছে পিকনিকের ব্যবস্থা। শিল্পীর মতোই সুনিপূণভাবে যেন দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময়ে আবহমান বাংলার চিরচেনা আর আধুনিকতার সুপরিকল্পিত সমন্বয়ে অরুণিমাকে সাজানো হয়েছে। শীতকালে এদেশের বিভিন্ন এলাকায় অতিথি পাখির সমারোহ থাকলেও অরুণিমায় এখন গ্রীষ্মকালেও দেশী-বিদেশী কয়েক হাজার পাখির এক বিশাল অভয়রণ্যে পরিণত হয়েছে। “বিশুদ্ধ খাবার নির্মল বায়ু সুস্বাস্থ্যের অঙ্গীকার” এই স্লোগানকে ধারন করে অরুণিমা কান্ট্রিসাইড। অরুণিমার পরিবেশ সম্পুর্ন শব্দ ও বায়ুদুষণমুক্ত গ্রামীন ও প্রাকৃতিক অথচ এখানে রয়েছে আধুনিক সব  সুযোগ-সুবিধা। অরুণিমাতে রয়েছে বিরল প্রজাতির দেশী-বিদেশী ফুল ও ফলের ভিন্ন ভিন্ন বাগান, আধুনিক ও বৈচিত্রময় কটেজ, উন্নত ডাইনিং হল, কনফারেন্স হল, আধুনিক বিজনেস সেন্টার, চিলড্রেন পার্ক, ইনডোর-আউটডোর খেলাধুলার সুবিধাসহ আরও অনেক কিছু। এছাড়া অরুণিমাতে বেসরকারী পর্যায়ে দেশের প্রথম 9 Hole 36 PAR গলফ কোর্সের মাঠ রয়েছে, গলফ ক্লাবও গঠন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এখানে একাধিক গলফ টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফলে দেশী-বিদেশী গলফ ক্লাবের  সদস্যগণ আকৃষ্ট হচ্ছে।  গ্রাম বাংলার হারানো সংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন রয়েছে অরুণিমায়। ঐতিহ্যবাহী গ্রামীন উপকরণ, ঢেঁকি, পোলো, কোচ, পানের বাটা, হুক্কা, গরুর গাড়ীসহ বিভিন্ন গ্রামীন উপকরণ ব্যবহার ও প্রদর্শনের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে। লেকে এবং মধুমতি নদীতে ভ্রমনের জন্য অরুণিমাতে রয়েছে লাইফবোট, ডিনার বোর্ট প্যাডেল বোর্ট। রিসোর্ট সংলগ্ন মধুমতি নদীতে আকর্ষণীয় নৌ পর্যটন রয়েছে। এখানকার নৌ-বিহার অসাধারণ রোমাঞ্চকর, দুই পাড়ের এবং মধুমতি-নবগঙ্গার মোহনার অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দার্য ভ্রমন পিয়াসীদের মুগ্ধ করে। রয়েছে নিজস্ব খামারে উৎপাদিত মৌসুমি সব্জির বিশাল সম্ভার এবং বড় আকারের চিতল, রুই, কাতলাসহ বিলুপ্তপ্রায় বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছের সমারোহ যার সবই জৈব উপায়ে উৎপাদিত।

এখানে কিভাবে আসতে হবে? রাজধানী ঢাকা থেকে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরী পার হয়ে ফরিদপুর হয়ে ভাঙ্গা-ভাটিয়াপাড়া-চন্দ্রদিঘলিয়া হয়ে বরফা অরুণিমা ফেরীঘাট পার হলেই স্বপ্নপুরী অরুণিমা। এত সময় লাগে প্রায় ৪ ঘন্টা। আবার ঢাকা থেকে মাওয়া হয়ে স্পীডবোটে পদ্মা নদী পার হয়ে ভাঙ্গা-ভাটিয়াপাড়া-চন্দ্রদিঘলিয়া হয়ে অরুণিমায় যেতে লাগবে ৩ ঘন্টা। খুলনা থেকে গোপালগঞ্জ চন্দ্রদিঘলিয়া হয়ে বরফা অরুণিমা ফেরীঘাট পার হয়ে অরুণিমায় যেতে ১ ঘন্টা ২০ মিনিট সময় লাগে। এছাড়া নড়াইল থেকে লোহাগড়া হয়ে মহাজন বাজার থেকে নবগঙ্গা ও মধুমতি নদী ফাইবার বোটে পাড়ি দিয়ে অরুণিমাতে যাওয়া যায়। অথবা মহাজন থেকে নবগঙ্গা নদী পার হয়ে বড়দিয়া বাজার থেকে ভ্যান, মোটর সাইকেল, নছিমনে  যাওয়া যায়। এ পর্যটন কেন্দ্রের প্রবেশ পথেই দেখা যাবে সারিবদ্ধ ঝাউগাছ। এখানে আগতদের অভ্যর্থনা জানানোর জন্যই যেন দাঁড়িয়ে আছে। হাজার হাজার বিরল প্রজাতির ফল ও ফুলের ও  বনজ ও ঔষধি বৃক্ষের চারা রোপন করে অরুনিমাকে প্রাকৃতিক সৌন্দার্যের এক অপরূপ সৃষ্টি হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।  আম, কাঠাল, লিচু, নারকেল, চেরি, স্টার আপেল, জলপাই, পেঁপে, কুল প্রভৃতিসহ অসংখ্য ফলের গাছ রয়েছে। ফুলের মধ্যে ড্যাফোডিল, ক্যামেলিয়া, লিলি, কুমারী পান্থ, পদ্ম, নীলপদ্ম, রঙ্গন, কাঞ্চন, প্রায় দুইশ’ প্রজাতির গোলাপ, মার্বেলটাস্ক, টগর, গ্যালাডুলাসসহ আরো অনেক রকম ফুল এ পর্যটন কেন্দ্রের শোভা বর্ধন করেছে।
অরুণিমা কান্ট্রিসাইড এন্ড গলফ রিসোর্টের কিছু দূরে সবুজ মেহগনি বাগানে নেচার বেজড থিমপার্ক তৈরীর করা হচ্ছে যা আগামী শীত মৌসুমে পর্যটকদের জন্য খুলে দেয়া হবে। থিমপার্কে থাকবে সব বয়সী পর্যটকদের জন্য আধুনিক সব বিনোদনমূলক রাইডস। এছাড়া এক একরের ঝাউবন, বিপুল সংখ্যক আম্রপালি গাছের বাগান ও গোলাপ বাগান রয়েছে। এখানে ১ হাজার ৪ শ’ প্রজাতির  ফলজ, বনজ ও ঔষধি বৃক্ষ রয়েছে। এ পর্যটন কেন্দ্রে ১৯টি বিশালাকৃতির পুকুর রয়েছে যা পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। এ সকল পুকুরে রুই, কাতলা, মৃগেল, পাঙ্গাস, চিংড়ী, বোয়ালসহ অর্ধ শতাধিক প্রজাতির মাছ চাষ করে প্রতি বছর অনেক টাকা আয় হচ্ছে। এ পর্যটন কেন্দ্রের গাছের ছায়ায় বিভিন্ন প্রজাতির পাখির গান শুনতে শুনতে লেকের পাড়ে অনায়াসে কাটিয়ে দেয়া যায় অনেকটা সময়। সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে  শ্যামা, বেলেহাঁস, পানকৌড়ে, ঘুঘু, কবুতর, দোয়েল, বুলবুলি, শালিক, সুঁইচোরা, চড়ূই, বক, রাজহাঁসসহ অসংখ্য বিলুপ্ত প্রায় পাখি দেখা যায়।  গরু, মুরগী, হরিণ, হাউন্ট কুকুরও রয়েছে এখানে। দেশী ও বিদেশী পর্যকটকদের বিনোদনের জন্য রয়েছে স্পীডবোট, প্যাডেল বোট, ২০ সিটের ভ্রমণ বোট, সুইমিং পন্ড, ঘোড়ার গাড়ি, শিশুদের গেমস কর্ণার প্রভৃতি। পর্যটকদের আবাসিক সুবিধার জন্য এসি, ননএসি ৩০টি কটেজে ৩৫টি রুম রয়েছে। ২ রুম বিশিষ্ট একটি ভাসমান কটেজ যা পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। এ আবাসিক বোটসহ সকল প্রকার কটেজে রয়েছে খাবারের সু-ব্যবস্থা। পাখি প্রেমিগণ। লেকের মাঝে রয়েছে দ্বীপ রেস্টুরেন্ট। দ্বীপ রেস্টুরেন্টে অনায়াসে ৭০/৮০ জনের বসার ব্যবস্থা আছে। এ রেস্টুরেন্টে দেশী-বিদেশী খাবার, ফলের জুস, নিজস্ব খামারে উৎপাদিত সব্জি ও মছের ফ্রাইসহ আরো আছে অষ্ট্রেলিয়ান মেশিনের সাহায্যে তৈরী বারবিকিউ। এ পর্যটন কেন্দ্রে ৪শ’ জনের সেমিনার, কনফারেন্স এর ব্যবস্থা আছে। ৭৫ জনের আবাসিক সুবিধাসহ ট্রেনিং এর ব্যবস্থাও রয়েছে। দেশের বেকার যুবক-যুবতীদের আত্মকর্ম সংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে অরুণিমায় Nature Based Tourism Institute স্থাপন করা হয়েছে। এই ইনস্টিটিউটে হাতে-কলমে শিক্ষাদানের মাধ্যমে পর্যটন খাতের জন্য প্রশিক্ষিত জনবল সৃষ্টির পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে যা একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে সকল মহলে আলোচিত হচ্ছে।
অরুণিমা কান্ট্রিসাইড এন্ড গলফ রিসোর্ট ঘিরে রয়েছে নানা ঐতিহাসিক নিদর্শন। এখান থেকে ৮০ কিঃমিঃ দক্ষিণে বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদ ও ৯০ কিঃমিঃ দক্ষিণে সুন্দরবন অবস্থিত। এছাড়া রিসোর্টের ১০ কিঃমিঃ পশ্চিমে কালিয়া উপজেলা শহরে রয়েছে বিশ্ববিখ্যাত সেতার বাদক রবীশংকর ও নৃত্যশিল্পী উদয় শংকর ভ্রাতৃদ্বয়ের পৈত্রিক বাড়ী, কিংবদন্তী চিত্রনায়িকা সুচিত্রা সেনের কৈশোর স্মৃতি বিজড়িত ভবানী সেনের বসতবাড়ী (সুচিত্রার নানা বাড়ী) ও সেখানে রক্ষিত কয়েকশ’ বছরের পুরানো পিতলের রথ মন্দির। প্রায় ২ কিলোমিটার পূর্ব-উত্তরে মধুমতি নদীর তীরে অবস্থিত শুকতাইল গ্রামে হাজার বছরের স্থাপত্য নিদর্শন শুকতাইল মঠ, যা প্রায় ১৭শ’ বছর পুর্বে সম্রাট অশোকের শাসনামলে নির্মিত বলে লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে। এছাড়া ৩০ কিলোমিটার পশ্চিমে নড়াইল জেলা শহরের মাছিমদিয়া গ্রামে রয়েছে বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের বসতবাড়ি। এখানে তিনি শিশুদের জন্য নিজহাতে গড়েছেন শিশুস্বর্গ। পাশেই রয়েছে চিত্রা নদীতে জমিদারদের স্মৃতি বিজড়িত বাঁধাঘাট, যা পর্যটকদের দৃষ্টি কেড়ে নেবে। প্রায় ১০ কিলোমিটার পূর্ব দিকে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ নগরে গড়ে উঠেছে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ স্মৃতি সংগ্রহশালা ও যাদুঘর। ইতনা গ্রামে রয়েছে ঔপন্যাসিক ডাঃ নিহাকরঞ্জন গুপ্তের বাড়ি। সদরের ডুমদিতে রয়েছে কবিয়াল বিজয় সরকারের বাড়ি, রয়েছে তারাপুর গ্রামে জারি সম্রাট মেসলেমউদ্দিনের বাড়ি। রয়েছে এ যুগের ক্রিকেটার নড়াইল এক্সপ্রেস মাশরাফি বিন মর্তুজার বাড়ি। বতমান সরকার পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। অভিজ্ঞ মহল মনে করে বেসরকারীভাবে স্থাপিত এসব পর্যটন কেন্দ্র/রিসোর্টগুলিকে সরকাররের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হলে এ খাত থেকে প্রচুর বৈদেশিক মূদ্রা অর্জনসহ বিপুল বেকার জনগোষ্ঠির কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

দেশের পর্যটন খাতকে সমৃদ্ধ করার লক্ষেনদী সমুহকে ব্যবহার করে নৌ-পর্যটন গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে এবং উন্নয়ন বঞ্চিত এই জেলাকে পরিচিত করার লক্ষেইইকো পার্কের যাত্রা শুরু হয়েছে ।

ঢাকা থেকে সড়ক পথে নড়াইল এর কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানার পানিপাড়াতে যেতে হবে

প্রতিদিন ৯.০০টা হতে বিকাল-৫.০০ টা পর্যন্ত খোলা

ইরফান আহমেদ

ব্যবস্থাপনা পরিচলাক

অরুনিমা ইকো পার্ক,

পানিপাড়া, নড়াগাতী, কালিয়া, নড়াইল

ফোন-০১৭১১-০৭৪০৮৫

চিত্রা রিসোর্ট, সীমাখালী, নড়াইল

পূথিবির বিখ্যাত চিত্রশিল্পীদের আকা ছবি নিয়ে গঠিত একটি আর্ট গ্যালারী, নদীর তীরে বসে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ, বাচ্চাদের খেলার জন্য শিশুপার্ক ও চিত্রানদীতে ভ্রমণের সুব্যবস্থা আছে । ঢাকা থেকে সড়ক পথে দুরত্ব ৩১০ কিঃমিঃ সময়-৫/৬ ঘন্টা

শহরের কোলাহল ছেড়ে নদীর তীরে বসে প্রাকৃতি সৌন্দর্য উপভোগসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের কাছে অত্র জেলাকে পরিচিত করে তোলা

ঢাকা থেকে সড়ক পথে আরিচা ফেরী পার হয়ে নড়াইল সদর ।

প্রতিদিন ৯.০০টা হতে বিকাল-৫.০০ টা পর্যন্ত খোলা

মোঃ তরিকুল ইসলাম (অনিক) স্বত্ত্বাধিকারী ,

চিত্রা রিসোর্ট,

মহিষখোলা, নড়াইল

ফোন-০১৭১৩-০৬৩৬১০

বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ নূর মোহাম্মদ শেখ কমপ্লেক্স, নুর মোহাম্মদনগর, নড়াইল

স্বাধীনতা যুদ্ধে অপরিসীম বীরত্ব, সাহসিকতা ও দেশ প্রেমের জন্য বাংলাদেশ সরকার শহীদ নূর মোহাম্মদ শেখকে রাস্ট্রীয়ভাবে বীরশ্রেষ্ঠ খিতাবে ভূষিত করেন । এই খানে তাঁর স্মৃতি রক্ষায়বাংলাদেশ সরকার একটি ট্রাস্ট, গ্রন্থাগার ও স্মৃতি যাদুঘর করেছেন। এ ছাড়াও তাঁর নামে এখানে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও একটি মহাবিদ্যালয় রয়েছে

জাতীয় শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর শ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ এর স্মৃতি গণমানুষের কাছে চির ভাস্বর করে রাখার মানসে এবং মহান এই বীর সৈনিকের দেশ প্রেম, বীরত্বগাথা, অজানা কাহিনী গবেষনার মাধ্যমে জানা ও পরবর্তী প্রজন্মকে উজ্জীবিত করার প্রয়াসে বীর শ্রেষ্ঠ শহীদ নূর

ঢাকা থেকে সড়ক পথে আরিচা ফেরী পার হয়ে নড়াইল সদর ।

সরকারী ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন ৯.০০টা হতে বিকাল-৫.০০ টা পর্যন্ত খোলা

প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা

জেলা পরিষদ, নড়াইল

ফোন-০৪৮১-৬২৫৩০